ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন পাস, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩১-০৩-২০২৬ ১২:৪৬:১৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩১-০৩-২০২৬ ১২:৪৬:১৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
প্রাণঘাতী হামলার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি হিসেবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট।
সোমবারের (৩০ মার্চ) এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডানপন্থি মিত্রদের দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হচ্ছে; জানিয়েছে রয়টার্স।
এই আইনটি শুধু হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ‘ইসরায়েলের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করা’।
সমালোচকরা বলছেন, এর মানে এই আইন ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেবে কিন্তু একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি ইসরায়েলিদের দেবে না। আর আইনের এই ধারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রটি ইসরায়েলের ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যাদের অনেকেই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।
এই আইনে শাস্তি দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে কিন্তু বিলম্বের জন্য কিছু ভাতা বরাদ্দ করা হলেও ক্ষমার কোনো কোনো সুযোগ নেই। এতে সর্বোচ্চ সাজার বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিকল্প রাখা হলেও তা শুধুমাত্র অনির্দিষ্ট ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ইসরায়েল হত্যাকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান ১৯৫৪ সালে বিলুপ্ত করেছিল। ইসরায়েলে ১৯৬২ সালে বেসামরিক আদালতে বিচারের পর শুধু একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। অ্যাডলফ আইখম্যান নামের এই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নাৎসি গণহত্যার একজন পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
ইতোমধ্যে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোর দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অধিকার থাকলেও এমন কিছু করেনি তারা।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালে এই আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি ও তার সমর্থকরা ফাঁসির দড়ির আকৃতির ল্যাপেল পিন পরতেন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ক্লেসেটের ১২০ জন সদস্যদের মধ্যে ৬২ জনের সমর্থন পেয়ে প্রস্তাবিত আইনটি পাস হয়।
আইনটি পাস হওয়ার পর পাার্লামেন্টে বেন গভির বলেন, “আজ হত্যাকারীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি দিন, শত্রুদের জন্য প্রতিরোধের একটি দিন। যে সন্ত্রাস বেছে নেয় সে মৃত্যু বেছে নেয়।”
এই আইন পাস করায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই দেশটি তাদের দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও গাজা যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে তদন্তের মুখে রয়েছে।
এই বিধানকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এটিকে ফিলিস্তিনের ‘ভয় দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এই আইনের প্রতিশোধ হিসেবে হামলা শুরু করার জন্য ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ভোটের আগেই প্রস্তাবিত আইনটির সমালোচনা করেন জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এই আইন ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘বৈষম্যমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা। এটি ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক নীতিকে খর্ব করে বলে মনে করছেন তারা।
জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এই আইনে ‘সন্ত্রাসবাদীর’ সংজ্ঞা পরিষ্কার না, ফলে সত্যিকারভাবে ‘সন্ত্রাসী’ না এমন লোকজনও এই আইনের ধারায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলের কিছু মানবাধিকার সংগঠনও এই আইন পাসের নিন্দা জানিয়েছে।
এই আইন আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, এমন ধারণা থেকে নেতানিয়াহু আইনের কিছু ধারা নমনীয় করার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে খবর ইসরায়েলি গণমাধ্যমের। কিন্তু তার আহ্বান অগ্রাহ্য করা হলেও প্রস্তাবিত আইনের পক্ষেই ভোট দেন তিনি।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স